নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারকে ঘিরে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের প্রশাসনিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে কোটি টাকার অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে।
ক্যান্টিনে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ:
অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগারের ক্যান্টিন পরিচালনায় রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। জেলার জাকির হোসেনের ঘনিষ্ঠ কারারক্ষী ১৪৮২৮ মো: আলামীন ক্যান্টিন কার্যক্রমের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন। কাগজে-কলমে বিভিন্ন কারারক্ষীর নামে ডিউটি দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানা গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ক্যান্টিন পরিচালনার মূল দায়িত্বে রয়েছেন কারারক্ষী মাসুদ এবং ১৫০৫৯ নম্বর কারারক্ষী মো: শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম পূর্বে দীর্ঘদিন এই কারাগারে ক্যান্টিন পরিচালনা করার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলি হলেও পুনরায় তাকে একই দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
রেশন সিন্ডিকেট ও অবৈধ আয়
শুধু ক্যান্টিন নয়, কারাগারের বাইরে রেশন সরবরাহ নিয়েও গড়ে উঠেছে আরেকটি সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, সর্বপ্রধান কারারক্ষী মনিরুল ইসলাম ও হারুন অর রশিদের মাধ্যমে এই রেশন বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ লেনদেন হচ্ছে।
ডিউটি বণ্টনে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার:
কারাগারের লাইস (ডিউটি বণ্টন) রুমেও দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের আধিপত্য চলছে। প্রায় দুই বছর ধরে একই পোস্টিংয়ে থাকা কারারক্ষী ১৫০৬৬ অনিক ইসলাম এবং ১৫০১৪ মো: রাব্বী মিয়া একটি শক্তিশালী গ্রুপ তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই গ্রুপের সদস্য হিসেবে ১৪৯০৯ মো: মোবারক হোসেন, ১৫৩৩৯ শাকিল হোসেন, ১৫০২০ মো: রেজাউল করিম ও ১৫২০৫ তন্ময় বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নিজেরাই ডিউটি তালিকা তৈরি করে এবং সুবিধাজনক ডিউটি নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে থাকেন, ফলে অন্য কারারক্ষীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
কারাগারের ভেতরে চিকিৎসা খাতে অনিয়ম:
চিকিৎসা সেবাতেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফার্মাসিস্ট এ এম মনীর আহমেদের বিরুদ্ধে কারারক্ষীদের সাথে অসদাচরণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে কারারক্ষী ১৩৮৭২ সিরাজুল ইসলামের নামও উঠে এসেছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ঘুমের ওষুধ বন্দিদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে এবং বাহিরের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য মোটা অংকের অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এতে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দীর্ঘদিন একই পোস্টিংয়ে থাকায় অনিয়ম বৃদ্ধি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন একই পোস্টিংয়ে থাকার কারণে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে ওঠে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নষ্ট করে এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
প্রশাসনের নীরবতা ও তদন্তের দাবি:
এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।













