বৃহস্পতিবার , ১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৮ই পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
insidebusinessnews.com
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. প্রবাস
  11. ফিচার
  12. বাণিজ্য
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিভাগীয় সংবাদ

দেশনেত্রী বিদায়ে নিস্তব্ধ ফিরোজা, শোকাতুর গুলশান

প্রতিবেদক
Newsdesk
জানুয়ারি ১, ২০২৬ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডের সেই চিরচেনা বাড়ি ‘ফিরোজা’ এখন নিস্তব্ধ। যে বাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সেখানে এখন কেবলই শূন্যতা। প্রিয় নেত্রীর প্রয়াণে পুরো গুলশান এলাকা এবং রাজনৈতিক মহলে বইছে শোকের ছায়া।

এক-এগারো পরবর্তী সময়ে সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়ার পর ‘ফিরোজা’ই ছিল বেগম খালেদা জিয়ার ঠিকানা। দাফনের পরদিন বৃহস্পতিবারও বাড়ির নিরাপত্তাব্যবস্থা আগের মতোই অটুট দেখা গেছে। তবে দায়িত্বে থাকা সিএসএফ সদস্য ও কর্মচারীদের চোখেমুখে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা। অনেকেই বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিরাপত্তাকর্মীরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ম্যাডাম আমাদের সব সময় মায়ের মতো আগলে রাখতেন। ঠিকমতো খেয়েছি কি না, তার খোঁজ নিতেন। আজ পুরো বাড়িটা নিস্তব্ধ হয়ে আছে, এই শূন্যতা সইবার মতো নয়।

02

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ম্যাডামের অসংখ্য স্মৃতি এই বাসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। যারা শহীদ জিয়ার সময় থেকে এই পরিবারের সঙ্গে আছেন, তাদের আবেগ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

মায়ের শোকে আচ্ছন্ন হয়ে ‘ফিরোজা’র পাশের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে আছেন দেশনেত্রীর বড় ছেলে এবং  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তিনি মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনায় নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় মগ্ন ছিলেন। আত্মীয়-স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দিতে এলে মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে দাপ্তরিক কাজে যোগ দেন।

03

গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ শোকের আবহ ছিল তীব্র। দলীয় ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার পাশাপাশি সেখানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেখানে খোলা হয়েছে শোক বই, যেখানে সই করেছেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

শোক জানাতে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুর্শিদ, যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন, ইরানের রাষ্ট্রদূত মনসুর চাভুশি এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ আরও অনেকে। কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কণ্ঠে ছিল নেত্রীর অভাববোধের আকুলতা।

গুলশানের বাসিন্দা হাসানুজ্জামান খান বলেন, ম্যাডামের চলে যাওয়া কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, এটি গণতন্ত্রপ্রিয় সব মানুষের শোক। এখন আমাদের ভরসার জায়গা তারেক রহমান।

গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করা বেগম খালেদা জিয়াকে বুধবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। প্রিয় নেত্রীর পার্থিব অনুপস্থিতি থাকলেও তার রেখে যাওয়া আদর্শ ও স্মৃতি এখন নেতা-কর্মীদের পথচলার পাথেয়।

সর্বশেষ - অন্যান্য