বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ ২০২৬ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
insidebusinessnews.com
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. প্রবাস
  11. ফিচার
  12. বাণিজ্য
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. বিভাগীয় সংবাদ

ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত!

প্রতিবেদক
MD SOLAIMAN
মার্চ ৫, ২০২৬ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সাথে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নতুন করে গড়ে তুলতে বিশাল ব্যয়সহ নানাবিধ ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি মাথায় রাখার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যকার এই সংঘাত আজ চতুর্থ দিনে পদার্পণ করেছে। পেন্টাগন থেকে ফাঁস হওয়া তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও ১০ দিন একইভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে।


গত শুক্রবার বিকেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানের সাথে পারমাণবিক আলোচনার গতিপ্রকৃতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। এর ঠিক তিন ঘণ্টা পর তিনি এক ভয়াবহ অভিযানের নির্দেশ দেন, যার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এর প্রতিশোধ নিতে ইরান বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

পেন্টাগন ট্রাম্পকে জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সমরাস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। তবে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে পরিমাণ অস্ত্র মজুত আছে তা দিয়ে তারা চিরকাল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রের সরবরাহ কার্যত সীমাহীন এবং এই সরবরাহ ব্যবহার করে অত্যন্ত সফলভাবে অনন্তকাল যুদ্ধ করা সম্ভব। ট্রাম্প সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ওপর এই হামলা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এটি আরও দীর্ঘ হতে পারে।


বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রের মজুত বিশেষ করে ‘ইন্টারসেপ্টর মিসাইল’ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ রিপোর্ট করেছিল, পেন্টাগন কর্মকর্তা এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। কেইন আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের অভাব ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ইসরাইল ও ইউক্রেনের মতো মিত্রদের সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে আমেরিকার অস্ত্রের মজুত ইতিমধ্যেই অনেকটা কমে গেছে।

গত বছরের ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টরের ২৫ শতাংশ (প্রায় ১৫০টি) ব্যবহার করেছিল। এছাড়া মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধের সময় জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ইন্টারসেপ্টরও ফুরিয়ে গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র তার উন্নত নির্ভুল সমরাস্ত্র এবং থাড সিস্টেমের মতো প্রধান ইন্টারসেপ্টরগুলোর সরবরাহ শেষ করে ফেলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে জেডিএএম, যা সাধারণ বোমাকেও জিপিএস-চালিত ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তর করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মূলত রাশিয়া, চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো পরাশক্তিদের স্বল্পস্থায়ী ও তীব্র হামলা মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল; ইরানের বর্তমানের মতো দীর্ঘমেয়াদী এবং কম খরচের রকেট হামলা মোকাবিলার জন্য নয়।


গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইন্টারসেপ্টর তৈরির সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। ইরানের উৎপাদন ক্ষমতা মাসে ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মাসে মাত্র ছয় থেকে সাতটি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে পারে।

ইরান যুদ্ধের আকাশচুম্বী ব্যয়: ইরানের ওপর হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র খরচ করেছে ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকা)। সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্যমতে, ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের মতো রণতরীগুলো পরিচালনা করতে প্রতিদিন প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। ইরানের ওপর এই বড় অভিযানের প্রস্তুতি এবং সামরিক সজ্জা সাজাতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার।

পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্সের মতে, ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়াবে অবিশ্বাস্য ২১০ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ১৮.৮৭ লাখ কোটি টাকা)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

ইয়েমেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অভিযানে ব্যয় হয়েছে আরও ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের ‘কস্টস অফ ওয়ার’ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ব্যয়ের পরিমাণ ৩১.৩৫ বিলিয়ন থেকে ৩৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-এনডিটিভি

সর্বশেষ - অন্যান্য