ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে পেন্টাগনের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধু শুরু এবং সামনের দিনগুলোতে হামলার মাত্রা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তবে মার্কিন এই সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবির আড়ালে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে এক হৃদয়বিদারক মানবিক বিপর্যয় ঘটে গেছে, যেখানে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক শিশু।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এখন মার্কিন বাহিনী দেশটির মূল ভূখণ্ডের আরও গভীরে ঢুকে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।

হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী আরও বড় ঢেউ আসতে চলেছে। আমরা শুধু শুরু করেছি; আমাদের গতি কমছে না, বরং বাড়ছে। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের পুরো আকাশসীমা নিজেদের কবজায় নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমানবাহিনী।
এই ব্রিফিংয়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। হেগসেথ জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডোর আঘাতে ইরানের গর্বের যুদ্ধজাহাজ ‘সোলেমানি’ ডুবিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টর্পেডো ব্যবহার করে কোনো শত্রু জাহাজ ডুবিয়ে দেয়ার এটিই প্রথম ঘটনা।
সাবেক ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেমানির নামে নামকরণ করা এই জাহাজটি ডুবে যাওয়া প্রসঙ্গে হেগসেথ বিদ্রূপাত্মকভাবে বলেন, মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোলেমানিকে দুবার হারালেন।
যুদ্ধের এই জয়োল্লাসের মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহর থেকে এক মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু।
এই ঘটনার পর তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ শোকাতুর হৃদয়ে জানাজায় অংশ নেন। শিশুদের নিথর ছবি হাতে স্বজনদের আহাজারি ইরান ছাড়িয়ে বিশ্ব বিবেকে নাড়া দিলেও হেগসেথ শুধু এটুকুই বলেছেন, আমরা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করি না, তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জেনারেল কেইন দাবি করেছেন, টানা হামলায় ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার ৮৬ শতাংশ এবং ড্রোন হামলার হার ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে মার্কিন বাহিনী এখন ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে আরও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হচ্ছে।














