কারা প্রশাসনে কথিত কোটি টাকার বদলি বাণিজ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর সিলেট মেট্রোপলিটন কারাগারে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টে জেলারের বদলিকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়।

এ ঘটনার পর পূর্বশত্রুতার জের ধরে সিলেট মেট্রোপলিটন কারাগারের কারারক্ষী হামিদুর রহমানের নামে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন একই কারাগারের জেলার আরিফুর রহমান—এমন অভিযোগ উঠেছে। মামলাটি ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দেখিয়ে করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই মামলা প্রকৃত দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। কারণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে মাসুদ হাসান জুয়েলকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলি করা হয়, যা নিয়ে কারা অধিদপ্তরের ভেতরে আগে থেকেই অর্থ লেনদেনের গুঞ্জন ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, কারা অধিদপ্তরের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোটি টাকার লোভ সামলাতে পারেননি এবং বদলির নামে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কায় প্রকৃত বিষয় ধামাচাপা দিতে নিম্নপদস্থ কারারক্ষী হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এই কথিত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি জেল সুপার জান্নাতুল ফরহাদ ও ডেপুটি জেলার জাকির হাসান রিয়াল অবগত ছিলেন এবং টাকা-পয়সা বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল। যদিও এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে যদি অভিযোগকারী বা নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ভয় দেখানো হয়, তাহলে কারা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


















